শ্রীমাভোবন্দর নায়েক
জন্ম:১৭ই এপ্রিল ১৯১৬
ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও শ্রীলঙ্কার ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি ছিলেন আধুনিক বিশ্বের প্রথম মহিলা সরকারপ্রধান। শ্রীমাভোবন্দর
নায়েক তিনবার সিলন ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টিকে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। সমাজতন্ত্রকে ভিত্তি করে ও তারস্বামীর রাষ্ট্রনীতির সাথে মিল রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।১৯৫৯
সালে নিহত
পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী সলোমন বণ্ডারনায়কের বিধবা
পত্নী ছিলেন
তিনি। শ্রীলঙ্কার
চতুর্থ রাষ্ট্রপতি চন্দ্রিকা কুমারতুঙ্গ এবং
সাবেক স্পিকার ও
মন্ত্রী অনুঢ়া বণ্ডারনায়ক তাঁর
সন্তান।
ধর্ম :থেরাবাদ বৌদ্ধ
মৃত্যু: ১০ই অক্টোবর ২০০০
রাজনৈতিক জীবন।
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি'র (ইউএনপি) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন তার স্বামী সলোমন। ১৯৪৭ সালে সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভার সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ইউএনপি থেকে সম্পর্ক ছেদ করে শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি) দলে নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিনিধি সভায় এসএলএফপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। এরফলে সলোমন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হন। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তন ঘটায় তার সরকারের পতন ঘটে। ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী কর্তৃক তিনি নিহত হন।
তার হত্যাকাণ্ডের ফলে সরকারে শূন্যতা সৃষ্টি হয়। সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী সি. পি. ডি সিলভা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় লন্ডনে চিকিৎসার্থে গমন করলে শিক্ষামন্ত্রী বিজেনন্দ দাহানায়েকে আপদকালীন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হন। অস্থিতিশীল সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ও মার্চ, ১৯৬০ সালের নির্বাচনে এসএলএফপি পরাজিত হয়।এ সময় শ্রীমাভোবন্দর নায়েকঅগ্রসর হন ও তার স্বামীর দলে নেতৃত্ব দেন। এভাবেই তিনি রাজনীতি অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৬০ সালে এম. পি. ডি জয়সা, জুনিয়র সিনেট থেকে পদত্যাগ করলে সিরিমাভো এসএলএফপি'র পক্ষ থেকে সিনেট সদস্য হন। জুলাই, ১৯৬০ সালের নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জয়লাভ করান। ২১ জুলাই, ১৯৬০ তারিখে সিনেটর থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শ্রীমাভোবন্দর নায়েক
। এরফলে তিনি বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন। নভেম্বর, ১৯৯৪ সালে সিরিমাভো'র কন্যা চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা জোটবদ্ধ পিপলস অ্যালায়েন্স দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তন্মধ্যে শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির নেতৃত্বে থাকা সিরিমাভোকে তার নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করেন।
ব্যক্তিগত জীবন
প্রখ্যাত রাদালা পরিবারের সন্তান হিসেবে সিরিমাভো বন্দরনায়েকে জন্মগ্রহণ করেন। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি বড় সন্তান ছিলেন। বাবা স্টেট
কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। কলম্বোর সেন্ট ব্রিজেট'স কনভেন্টে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৪০ সালে সলোমন ওয়েস্ট রিজওয়ে ডায়াস বন্দরনায়েকের সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। সুনেত্রা, চন্দ্রিকা ও অনুঢ়া নামে তাদের তিন সন্তান ছিল।প্রায় চল্লিশ বছর রাজনৈতিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত সিরিমাভো ১০ আগস্ট, ২০০০ তারিখে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। এর ঠিক দুই মাস পর ৮৪ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রক্রিয়ায় আক্রান্ত হলে দেহাবসান ঘটে তার।

No comments: